English
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বহিরাগমন-২ অধিশাখা www.mlit.gov.bd
৩১ ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
নং-৪৪.০০.০০০০.০৩৯.১৯.০০১.১২.১৪০৯ তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ খ্রিঃ

পরিপত্র



বিষয়ঃ বিনা ভিসায় আগতদের আগমনী ভিসা (Visa on Arrival) প্রদান প্রসঙ্গে।


সূত্রঃ ১) নং-স্বঃম: (বহি-২)/১পি-৭/২০০৬/২৮৮১, তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ২০০৬
    ২) নং-স্বঃম: (বহি-২)/১পি-৭/২০০৬/৫১৬, তারিখ: ০৪ এপ্রিল, ২০০৭
    ৩) নং-স্বঃম: (বহি-২)/১পি-৭/২০০৬/১৪৩৪, তারিখ: ১৯ আগষ্ট, ২০০৭ ৪) নং-স্বঃমঃ (বহি-২)/১পি-৭/২০০৮/১০৪৬, তারিখ: ৩০ নভেম্বর, ২০০৮
    ৫) নং-স্বঃম: (বহি-২)/১পি-৭/২০০৮/৮৬০, তারিখ: ০১ নভেম্বর, ২০০৯
    ৬) ৪৪.০০.০০০০.০৩৯.১৩.০১৩.১২.৩৮, তারিখ: ০৮ জানুয়ারি, ২০১৩

উপর্যুক্ত বিষয়ে বর্ণিত পরিপত্রসমূহ পর্যালোচনাক্রমে সরকার বাংলাদেশে বিদেশি পুঁজি ও প্রযুক্তি আকৃষ্টকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও পর্যটন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের এদেশে আগমন ও অবস্থান সহজতর করিবার নিমিত্ত আগমনী ভিসা (Visa on Arrival) প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে। বিভিন্ন দেশ হইতে আগতদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও স্থল বন্দরসমূহের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষান্তে নিম্নোক্ত শ্রেণির পাসপোর্টধারীদের বর্ণিত শর্তে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হইয়া বহুভ্রমণ সুবিধা ব্যতিত সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) দিনের আগমনী ভিসা প্রদান করিতে পারিবেঃ

ক. যেই সকল দেশে বাংলাদেশের কোন দূতাবাস নেই, শুধুমাত্র সেই সকল দেশ হইতে আগত নাগরিকদের ভ্রমণের উপযুক্ততা যাচাইঅন্তে আগমনী ভিসা প্রদান করা যাইতে পারে।

খ. বিদেশি বিনিয়োগকারী/ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড/ বেপজার প্রত্যয়ন পত্রের (প্রযোজ্যক্ষেত্রে) ভিত্তিতে আগমনী ভিসা প্রদান করা যাইতে পারে। তবে, আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি ব্যক্তির আগমনের বিষয়টি বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে পূর্বেই অবহিত করিতে হইবে।

গ. বাংলাদেশে কেবলমাত্র সরকারি কাজে, ব্যবসায়, বিনিয়োগ ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়ান ফেডারেশন, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, মিশর, তুরস্ক, ব্রুনাই এবং ইউরোপের দেশসমূহ হইতে উক্ত দেশসমূহের পাসপোর্টধারী আগতদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও স্থল বন্দরসমূহের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষান্তে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হইয়া আগমনী ভিসা প্রদান করিতে পারিবে।

ঘ. কোন ব্যক্তি তাঁর নিজ দেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশ, যেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস নেই, সেই দেশ থেকে বাংলাদেশের আগমন করিলে ভ্রমণের উপযুক্ততা যাচাই করিয়া তাকে আগমনী ভিসা প্রদান করা যাইতে পারে।

ঙ. বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক, তাদের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সনদ/প্রমানপত্রের ভিত্তিতে আগমনী ভিসা প্রদান করা যাইতে পারে।

চ. বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাস, জাতিসংঘ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়োগ/আগমন সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি পরীক্ষান্তে আগমনী ভিসা প্রদান করা যাইতে পারে। UN পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে ভিসা ফি প্রযোজ্য হইবে না।


০২। উপরোক্ত শ্রেণিতে আগমনী ভিসা নিয়ে আগত বিদেশিদের ভিসার বৃদ্ধির প্রয়োজন হইলে বিদ্যমান ভিসা নীতির আলোকে সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে উল্লিখিত শর্তে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

০৩। Connecting Flight পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট যাত্রী বহনকারী এয়ারলাইনস এর অনুরোধে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ Next available flight অথবা সর্বোচ্চ ৭২ (বাহাত্তর) ঘন্টার জন্য Transit visa দিতে পারিবে। এই জন্য সার্ভিস চার্জ হিসেবে মাথাপিছু ২০ (বিশ) মার্কিন ডলার বা সমপরিমান অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় নির্ধারিত ব্যাংকে ও নির্ধারিত হিসাবে জমা দিতে হইবে এবং ভিসা অব্যাহতি চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক, স্পেশাল বা অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীগণ বিনা ফি'তে ট্রানজিট ভিসা লাভ করিবেন।


০৪। আগমনী ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবেঃ
(ক) বৈদেশিক মুদ্রায় (ডলার/পাউন্ড/ইউরো) ভিসা ফি প্রদান করিতে হইবে;

(খ) সরকারি কাজ ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে আগত বিদেশির নিকট ন্যূনতম ৫০০ (পাঁচশত) মার্কিন ডলার/সমপরিমান বৈদেশিক মুদ্রা নগদ/ক্রেডিটকার্ডে থাকিতে হইবে:

(গ) আগমনকারীর নিকট ফিরতি বিমান টিকিট থাকিতে হইবে;

(ঘ) আগমনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকিতে হইবে;

(ঙ) যেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি প্রযোজ্য নয়, সেই সব দেশের পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে আগমনী ভিসার জন্য ফি প্রযোজ্য হইবে না;

(চ) যেই সকল দেশের সাথে পারস্পারিকতা (reciprocity) বা চুক্তির ভিত্তিতে আগমনী ভিসা প্রদান করা হয়। সেই সব দেশ ব্যতিত অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে আগমনী ভিসা ফি প্রযোজ্য হইবে; এবং

(ছ) আগমনী ভিসায় (Visa on Arrival) আগত বিদেশিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা সংগ্রহ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং স্থল ও বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত একটি মাসিক বিবরণী সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে প্রেরণ করিবে।

০৫। আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া আগমনী ভিসা প্রদান করিতে হইবে। তবে বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।

০৬। আগমনী ভিসা প্রাপ্তদের পাসপোর্টে স্থল ও বিমান বন্দরে কর্তব্যরত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যথানিয়মে আগমন ও প্রস্থান সীল প্রদান করিবে।

০৭। এই পরিপত্র কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে আগমনী ভিসা প্রদান সংক্রান্ত জারীকৃত পূর্বের সকল পরিপত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

০৮। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।



      স্বাক্ষরিত/
    ১৫.০৯.২০১৬
(সৈয়দা সালমা জাফরীন)
     উপসচিব
 সূত্রঃ [পৃষ্ঠা: ২৮-২৯]
    

আমি বুঝেছি